স্টাফ রিপোর্টার:আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পূর্বে আমিরাবাদ নূরিয়া জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত বয়ানে তাকওয়ার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন মসজিদের সম্মানিত ইমাম ও খতিব মুফতি মাওলানা জসিম উদ্দিন।
তিনি বলেন, ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রকৃত সুখ, শান্তি ও সফলতা অর্জনের মূল ভিত্তি হলো তাকওয়া। বর্তমানে সমাজে শিক্ষিত মানুষের অভাব না থাকলেও প্রকৃত ভালো ও নৈতিক চরিত্রসম্পন্ন মানুষের সংখ্যা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। নেতৃত্বের স্থানে সৎ ও তাকওয়াবান মানুষের অভাব থাকায় অনেক ক্ষেত্রে দেশ ও সমাজ কাঙ্ক্ষিত উন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
খতিব আরও বলেন, অনেক সন্তান উচ্চশিক্ষা অর্জন করলেও তারা পিতা-মাতার খোঁজখবর নিতে ভুলে যায়। এর অন্যতম কারণ হলো আল্লাহভীতি ও তাকওয়ার অভাব। পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত রাখতে তাকওয়াভিত্তিক জীবন গঠনের বিকল্প নেই।
তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় কুরআনভিত্তিক নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, শুধু ডিগ্রি অর্জন নয়, বরং তাকওয়াবান ও আদর্শ মানুষ গড়ে তোলাই হওয়া উচিত শিক্ষার মূল লক্ষ্য। ব্যক্তি ও সমাজের প্রকৃত সফলতার জন্য তাকওয়াসম্পন্ন মানুষের প্রয়োজন।
মুফতি জসিম উদ্দিন বলেন, পবিত্র কুরআনে বহু স্থানে তাকওয়ার গুরুত্ব ও মর্যাদা বর্ণনা করা হয়েছে। একজন মুমিনের জীবনে সবচেয়ে বড় সম্পদ ও সম্বল হলো তাকওয়া। আল্লাহ তাআলার নিকট সেই ব্যক্তিই অধিক সম্মানিত, যার তাকওয়া বেশি।
তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে বলেন, দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী। এই পৃথিবীর জীবন শেষ করে মানুষকে কবরে যেতে হবে এবং পরকালের জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে। যারা নফসের গোলামি করবে, তাদের পরিণতি হবে ভয়াবহ। তাই বিপদ-আপদ ও সংকটের সময়ে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে তাকওয়ার পথে চলার আহ্বান জানান তিনি।
বয়ানের শেষে তিনি মুসল্লিদের কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা, পিতা-মাতার সেবা, নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা এবং তাকওয়াভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।