গোলাম আজম ইরাদ:রাজধানী ঢাকার ধোলাইপাড় এলাকার পান্থনিবাসে অবস্থিত হযরত আলী জামে মসজিদে জুমার খুতবায় গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আলোচনা পেশ করেন মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মুফতি সাইয়েদ হোসাইন।
জুমার বয়ানে তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তাআলা মানুষ ও জিন জাতিকে একমাত্র তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। তবে ইবাদত বলতে শুধু নামাজ, রোজা বা মসজিদকেন্দ্রিক আমলকে বোঝায় না; বরং ইসলামের বিধান অনুযায়ী পরিচালিত একজন মুমিনের পুরো জীবনই ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত।
তিনি বলেন, ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। ব্যক্তি জীবন, পরিবার, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনাসহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই কোরআন ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। তাই একজন মুসলমানের উচিত জীবনের প্রতিটি কাজে আল্লাহর নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা।
মুফতি সাইয়েদ হোসাইন বলেন, যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে আল্লাহর হুকুম মেনে চলতে থাকে, তার জন্য ইবাদত ধীরে ধীরে সহজ হয়ে যায়। আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক যত দৃঢ় হয়, ততই নামাজ ও অন্যান্য ইবাদতে প্রশান্তি অনুভূত হয়। তিনি হাদিসের আলোকে উল্লেখ করেন, যাদের অন্তর সর্বদা মসজিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে, কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তাঁদের আরশের ছায়ায় স্থান দান করবেন।
তিনি মুসল্লিদের উদ্দেশে বলেন, “এমনভাবে ইবাদত করো যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ। আর যদি সেই অনুভূতি অর্জন করতে না পারো, তবে অন্তত এই বিশ্বাস রাখো যে আল্লাহ অবশ্যই তোমাকে দেখছেন।” এই উপলব্ধি মানুষের চরিত্র ও আমলকে পরিশুদ্ধ করে এবং আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের পথ সুগম করে।
খুতবার একপর্যায়ে তিনি বর্তমান সময়ে ফুটবলকে ঘিরে অতিরিক্ত উন্মাদনার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিদেশি দলের অন্ধ সমর্থন, পতাকা টানানো, তর্ক-বিতর্ক, মারামারি এমনকি প্রাণহানির মতো ঘটনাও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। খেলাধুলা বিনোদনের মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু তা যেন কখনোই ঈমান, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক সম্প্রীতি নষ্টের কারণ না হয়।
তিনি আরও বলেন, দুনিয়ার প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তাই মুসলমানদের উচিত দুনিয়াবি মোহ থেকে নিজেকে সংযত রেখে আখিরাতের সফলতার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা।
সবশেষে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন, আল্লাহ তাআলা যেন সবাইকে তাঁর প্রকৃত ভালোবাসা অর্জন, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান মেনে চলা এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করে এমন সব কাজ থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করেন।