স্টাফ রিপোর্টার:মাদারীপুর সদর উপজেলার চৌরাস্তা এলাকায় জেলা ছাত্রলীগের উপ-ধর্মীয় বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ উজ্জল মাতুব্বরের দোকান ও বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৫ আগস্ট) এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওইদিন চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থিত উজ্জল মাতুব্বরের স্বপ্ন ভ্যারাইটি স্টোরে একদল ক্ষুব্ধ জনতা হামলা চালায়। এ সময় দোকানে ভাঙচুরের পাশাপাশি অগ্নিসংযোগ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে রকেট বিড়ি এলাকার তার বাড়িতেও হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।এ ঘটনায় উজ্জল মাতুব্বর আহত হন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, হামলার সময় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।
উজ্জল মাতুব্বরের মা হাসিয়া বেগম সাংবাদিকদের বলেন, “আমার ছেলেকে ছাত্রদলের পোলাপান কোপাইছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।”
উজ্জল মাতুব্বরের পিতা মো. মাওলা মাতুব্বর সাংবাদিকদের বলেন, “বিএনপি-জামায়াতের লোকজন আমার ছেলের দোকান ও বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং পরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি করছি।”
তবে উজ্জল মাতুব্বরের পরিবারের করা এসব অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের সংশ্লিষ্ট কোনো নেতার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
দীপ্ত হত্যা মামলার আসামি উজ্জল মাতুব্বর বিদেশে পলাতক
মাদারীপুর প্রতিনিধি:
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া দীপ্ত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ১৭ নম্বর আসামি মোহাম্মদ উজ্জল মাতুব্বর বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত মোহাম্মদ উজ্জল মাতুব্বরের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্টভুক্ত মামলা নং-৪৮১/২৪ রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে দীপ্ত হত্যা মামলাসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামলা দায়েরের পর থেকেই উজ্জল মাতুব্বর আত্মগোপনে রয়েছেন এবং বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলার যেসব আসামি দেশের বাইরে পলাতক রয়েছেন, তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একটি তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তালিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।