গোলাম আজম ইরাদ:মাদারীপুরের কাজির মোড়, পুরান বাজার নাইস সু গ্যালারির সামনে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিঃশব্দে অপেক্ষা করেন এক মানুষ—মোঃ মোখলেসুর রহমান। সামান্য একটি ফুচকার দোকানই তার পাঁচ সদস্যের পরিবারের একমাত্র ভরসা। সেই দোকানটিই আবার পরিবেশগত কারণে কখনো চলে, কখনো চলে না। তবুও হাল ছাড়েন না তিনি।
দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তার ছোট্ট সংসার। বড় মেয়ে মিশকাত শেষ করে ইতোমধ্যে দাওরায়ে ভর্তি হয়েছে। মেঝো মেয়ে কুদুরি বিভাগে কওমি মাদ্রাসায় নিয়মিত পড়াশোনা করছে। ছোট ছেলে মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্নেই মোখলেছ মিয়ার সব পরিশ্রম, সব চেষ্টা। দিন-রাত সংগ্রামের মাঝেও বুক ভরা আশা নিয়ে বুক সোজা করে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি, যেনো শিক্ষার আলো তার সন্তানদের ভবিষ্যৎ আলোকিত করে।
ঢাকায় ছোট্ট একটি কারখানায় চাকরি করলেও সংসার ও সন্তানদের দিকে মনোযোগ দিতে না পারায় ১৩–১৪ বছর আগে তিনি ফিরে আসেন মাদারীপুরে। এরপর থেকেই শুরু হয় তার নতুন জীবন—ঝালমুড়ি, ছোলা, ভাজাপোড়া আর ফুচকা বিক্রির ওপর নির্ভর করে টানাটানির সংসার চালানো। প্রতিদিনের আয় দিয়ে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে প্রতি মাসে ৪,০০০ টাকা ভাড়া দিয়ে পূর্ব রাস্থি মিশকাত শরীফের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে থাকেন তিনি।
ফুটপাতের দোকান হওয়ায় প্রতিদিন সেই প্রত্যাশিত বিক্রি হয় না। কখনো ভিড়, কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা কোনো ক্রেতা নেই। কিন্তু অভিযোগ নেই মোখলেছ মিয়ার। তিনি শান্ত-শিষ্ট, নম্র মানুষ। রোজগার কম হলেও কৃতজ্ঞতা আছে তার হৃদয়ে, আল্লাহর ওপর ভরসা আছে তার বুক ভরা।
তবুও একটি আফসোস তাকে কুরে কুরে খায়—
“দোকানটা যদি একটু সুন্দরভাবে সাজাতে পারতাম, তাহলে হয়তো বিক্রিটাও বাড়ত, সংসারটাও একটু ভালো চলত।”
অর্থের অভাবে তিনি তার দোকানটিকে উন্নত করতে পারছেন না। আর এই একটি সুযোগ পেলেই তার জীবনযাত্রা বদলে যেতে পারে। সন্তানদের লেখা-পড়ার খরচ, পরিবারের নিত্যদিনের চাহিদা, বাসাভাড়া—সবকিছু একটু সহজ হতে পারত।
তার চোখে একটি ছোট্ট আশার আলো—
যদি সমাজের দয়ালু কিছু মানুষ তাকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়, যদি তার দোকানটি সুন্দরভাবে সাজাতে সহায়তা করে, তবে তিনি নিজ পায়ে দাঁড়াতে পারবেন, এগিয়ে যেতে পারবেন—আর সন্তানদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন।
মোখলেছ মিয়ার সংগ্রাম শুধু নিজের জন্য নয়; তিন সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য। একটি ছোট্ট ফুচকার দোকানই তার স্বপ্ন, তার লড়াই, তার জীবন।সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের কাছে বিনীত অনুরোধ—
দয়া করে এগিয়ে আসুন।
একজন পরিশ্রমী, সৎ ও সংগ্রামী বাবার স্বপ্নগুলো বাঁচিয়ে রাখতে আপনার একটু সহযোগিতাই যথেষ্ট।