মাদারীপুর প্রতিনিধি:মাদারীপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি কেএম তোফাজ্জল হোসেন ছান্টুর করা সংবাদ সম্মেলনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সমিতির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব কামরুল ইসলাম তুষু খন্দকার।
রোববার (আজ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিক্রিয়া বক্তব্যে তুষু খন্দকার বলেন, সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, কেএম তোফাজ্জল হোসেন ছান্টু নিজেই মাদারীপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে সভাপতির পদ দখল করে আছেন।
তুষু খন্দকার অভিযোগ করে বলেন, সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতি বা সাধারণ সদস্য হতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ন্যূনতম একটি বৈধ বাস বা পরিবহন গাড়ির মালিক হওয়া বাধ্যতামূলক। অথচ কেএম তোফাজ্জল হোসেন ছান্টুর নামে কোনো নিবন্ধিত বাস বা পরিবহন গাড়ির মালিকানা নেই। সে কারণে তার সভাপতি পদে থাকার কোনো আইনগত বা সাংগঠনিক বৈধতা নেই।
তিনি আরও বলেন, “আমি একজন ব্যবসায়ী এবং দীর্ঘদিন ধরে সোনালি পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে অতীতে আমার পরিবহন ব্যবসা একাধিকবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অথচ যিনি নিজে বাস মালিক নন, তিনি কীভাবে বাস মালিক সমিতির সভাপতি হন—এটাই আজ মাদারীপুরবাসীর প্রশ্ন।”
সংবাদ সম্মেলনে তুষু খন্দকারকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ ও ‘প্রতারক’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একজন সক্রিয় কর্মী। দীর্ঘদিন মাদারীপুর জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি দায়িত্ব পালন করেছি এবং বর্তমানে দলীয় নির্দেশনায় নির্বাচনী কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছি। আমাকে নিয়ে এমন বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা ছাড়া কিছু নয়।”
পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, কেএম তোফাজ্জল হোসেন ছান্টু একটি ভুয়া কমিটি গঠন করে বিএনপির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজিসহ নানা অনিয়মে জড়িত রয়েছেন, যা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
তুষু খন্দকার বলেন, “বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কেউ অপকর্ম করলে তার দায় দল নেবে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় পরিবহন সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে মাদারীপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির বর্তমান কমিটির বৈধতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।