রাজৈর প্রতিনিধি:
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ি ইউনিয়নের মহিষমারী গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি পরিবারের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার, ৮ আগস্ট ২০২৪ বিকেলে মৃত সমীর মণ্ডলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় সমীর মণ্ডলের স্ত্রী পুষ্পা মণ্ডল, মেয়ে পপি মণ্ডল, পুত্রবধূ সুবর্ণা মণ্ডল ও ভাই শরৎ মণ্ডল আহত হন। বর্তমানে তারা কদমবাড়ি স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত পুষ্পা মণ্ডল জানান, “আমরা হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। ২০১৯ সালের ১১ মার্চ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মন্টু শেখ ও নিটোল শেখ আমাদের জমি দখলের উদ্দেশ্যে একাধিকবার হামলা চালায়। তখন আমার স্বামী সমীর মণ্ডলকে বন্দুক দিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে আমার ছেলে অর্জু মণ্ডলের দোকানে হামলা করে লুটপাট করা হয়েছে এবং তাকে মিথ্যা অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করা হয়। বাধ্য হয়ে আমার ছেলে অর্জু মণ্ডল দেশ ত্যাগ করে চলে গেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “পুলিশ ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় আমাদের বাড়িতে বারবার নির্যাতন চালানো হয়েছে। তাদের নির্যাতনের কারণে আমার মেয়ে সবিতা মণ্ডল নিখোঁজ হয়ে যায়—আজও তাকে পাইনি। এবার আমাদের বাড়িতে হামলার পর আমরা থানায় মামলা করেছি, কিন্তু এখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
নিহত সমীর মণ্ডলের পুত্রবধূ সুবর্ণা মণ্ডল বলেন, “৫ আগস্ট (আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর) আমরা বাড়িতে ফিরে আসি। চাচা-শশুর শরৎ মণ্ডলের সহায়তায় সেখানে বসবাস শুরু করি। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যে জামায়াত নেতা কাওসার শেখ তার সমর্থকদের সঙ্গে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে এবং আমাকে, আমার শাশুড়ি, ননদ পপি ও জ্যাঠা শরৎ মণ্ডলকে মারধর করে আহত করে—তাদের হুমকি দেয় যে যদি আবার আমরা আমাদের বাড়িতে ফিরে আসি, তাহলে “তোর শ্বশুরের মতো তোদের সবাইকে মেরে ফেলবো।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, কাওসার শেখ জামায়াত নেতা হলেও তিনি আওয়ামী লীগ নেতা মন্টু শেখের ঘনিষ্ঠ বন্ধু; তারা মিলে আমাদের জমি দখল করার জন্য এই হামলা চালিয়েছে।”
আহত শরৎ মণ্ডল বলেন, “আগে আওয়ামী লীগের নেতারা আমাদের বাড়ি দখল করে রেখেছিল, এখন আবার জামায়াতের নেতারা এসে হামলা চালাচ্ছে। আমরা হিন্দু হওয়ায় বারবার নির্যাতনের শিকার হচ্ছি। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
ব্যাপারে রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। ভুক্তভোগী পরিবার একটি মামলা দায়ের করেছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনব।”