গোলাম আজম ইরাদ:মাদারীপুর পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক, পাড়া-মহল্লা ও বাজার এলাকায় প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে বাসাবাড়ি ও দোকানপাটের ময়লা-আবর্জনা সড়কে ফেলানোর অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য। এতে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং নাগরিকরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন। অভিযোগ রয়েছে—পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা থাকলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাব ও নাগরিক অসচেতনতার কারণে পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে।
পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নিয়মিত কাজ করলেও অনিয়মিত ঝাড়ুদান, সরঞ্জাম সংকট এবং জনবল স্বল্পতার কারণে কাঙ্ক্ষিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-গলিতে ময়লা স্তুপাকারে পড়ে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
পরিস্থিতি বদলাতে সর্বাধিক জরুরি হচ্ছে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি। বাসিন্দারা যদি নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলেন এবং পৌরসভার নির্ধারিত সময়সূচি মেনে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সহযোগিতা করেন, তবে দ্রুতই পরিবর্তন আনা সম্ভব।
পৌরসভা চাইলে সচেতনতা বাড়াতে আরও জোরালো উদ্যোগ নিতে পারে—উঠান বৈঠক, প্রচারভিযান, মাইকিং, পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ এবং ওয়ার্ডসভা আয়োজনের মাধ্যমে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।
একই সঙ্গে নিয়মিত ময়লা সংগ্রহ, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন, যানবাহন সরবরাহ এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে তদারকি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। তবে একটি পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তুলতে পৌর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ অপরিহার্য।
সচেতন নাগরিক অংশগ্রহণ ও পৌরসভার পরিকল্পিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মাদারীপুরকে আবারও পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব—এমন আশা সংশ্লিষ্টদের।