গোলাম আজম ইরাদ:বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীন পরিষদের উদ্যোগে মাদারীপুরের ভূঁইয়া কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত ডায়রি বিতরণ ও মতবিনিময় সভায় আলেম সমাজের ঐক্য ও কোরআনভিত্তিক নৈতিক শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হামিদ সাহেব।সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “দেশের সার্বিক কল্যাণ ও কোরআনের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য আলেম সমাজকে ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলগত বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এই ঐক্য আল্লাহর জমিনে কোরআনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে স্থায়ী হোক—এটাই আমাদের কামনা।”তিনি সতর্ক করে বলেন, “আলেমদের এই ঐক্যে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা থাকতেই পারে। শয়তান মরে নাই, তার কৌশলও শেষ হয় নাই। তাই ত্যাগ, কোরবানি ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এই ঐক্য রক্ষা করতে হবে।”মাওলানা হামিদ আরও বলেন, দেশের নৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বদানে আলেম সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোরআন-হাদিসের আলোকে অপরাধের শাস্তি এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। অতীতে চুরি-ব্যভিচারসহ বহু অপরাধে সঠিক বিচার না হওয়ায় নৈতিক অবক্ষয় বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।রাজনৈতিক প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী দলের নেতা-কর্মীরা সাধারণত সৎ, লুটপাট বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয়। নৈতিক শাসন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে সংসদ পর্যন্ত গিয়ে কথা বলার জন্যও আলেম সমাজ প্রস্তুত।”
আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলামী দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে শক্তি প্রদর্শন করতে পারলে বিজয় অর্জন সম্ভব। “পাঁচ দশকেও সুষ্ঠু নির্বাচন খুব কমই হয়েছে। তবে সবাই যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, পরিবর্তন অবশ্যই আসবে,” বলেন তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি আল্লাহর বিধানভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং সকল অংশগ্রহণকারী আলেম-ওলামাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও যারা উপস্থিত ছিলেন সভায় সভাপতিত্ব করেন মাজলিসুল মুফাসসিরীন পরিষদের মাদারীপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মনিরুজ্জামান হামিদী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর অঞ্চল সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আবদুস সোবহান খান, জেলা শাখার উপদেষ্টা মাওলানা মোখলেসুর রহমান হাফেজ কে এম ইয়াদুলহক, মুফতী তাজুল ইসলাম ইসলাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাওলানা ফয়সাল মাহমুদ মাদারীপুরী।
মতবিনিময় সভায় তরুণ ওয়ায়েজদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
অনুষ্ঠানের শেষে আলেম-ওলামাদের হাতে ডায়রি তুলে দেওয়া হয় এবং তারা দেশের নৈতিক উন্নয়ন ও কোরআনভিত্তিক সমাজ গঠনে মতামত ব্যক্ত করেন।