গোলাম আজম ইরাদ:মাদারীপুর পৌর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এখন জনজীবনে নতুন এক অস্বস্তির নাম। একই দিনে শহরের একাধিক স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা শুধু বিচ্ছিন্ন কোনো বিশৃঙ্খলা নয়—এটি আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়ে গভীর উদ্বেগের বার্তা বহন করে।
গতকাল পৌর এলাকার নয়াচর, চরমুগরিয়া, লক্ষীগঞ্জ সড়ক এলাকা, ডিসি ব্রিজ ও পূর্ব আমিরাবাদে কিশোরদের বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ইফতারের পর চরমুগরিয়া ব্রিজ সংলগ্ন নয়াচর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবস্থা নেয়। তবুও এলাকায় আতঙ্ক ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন মাদারীপুর এলাকায় একটি পরিত্যক্ত মুরগির ফার্ম থেকে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতির গভীরতা আরও স্পষ্ট করে। ডিসি ব্রিজ, কলেজ রোড ও পূর্ব আমিরাবাদ এলাকায় কিশোরদের সংঘর্ষ ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করতে হয়েছে। জানা গেছে, একটি পরিবহনচালককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি এলাকার কিশোরদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
প্রশ্ন হলো—কেন এভাবে কিশোররা গ্যাং সংস্কৃতিতে জড়িয়ে পড়ছে? পরিবারে নজরদারির অভাব, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, মাদক ও অনলাইন উসকানি, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া এবং বেকারত্ব—এসব কারণ মিলেই কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ঘটছে বলে সচেতন মহলের অভিমত।
একটি শহরের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার তরুণ প্রজন্মের ওপর। সেই প্রজন্ম যদি অস্ত্র হাতে আধিপত্যের লড়াইয়ে নামে, তবে তা শুধু আইনশৃঙ্খলার নয়, সামাজিক কাঠামোর জন্যও অশনিসংকেত। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান যেমন জরুরি, তেমনি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগও অপরিহার্য।
কিশোরদের অপরাধী হিসেবে নয়, বিভ্রান্ত প্রজন্ম হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের পুনর্বাসন, কাউন্সেলিং, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি যারা এসব গ্যাং পরিচালনা বা উসকানি দিচ্ছে—তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে কঠোরভাবে।
মাদারীপুরকে নিরাপদ রাখতে হলে এখনই সময় সম্মিলিত পদক্ষেপের। নীরব দর্শক হয়ে থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিক—সবার ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগেই কিশোর গ্যাংয়ের এই অশুভ বিস্তার রোধ করা সম্ভব।